রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ উদ্যোগ চলতি মাসে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানিতে বড় কোনো প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে গ্লোবাল রিয়াল টাইম ডাটা ও অ্যানালিটিকস সংস্থা কেপলার। খবর দ্য হিন্দু।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি মোটামুটি ডিসেম্বরের ধারা বজায় রাখবে। প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়া থেকে ১২ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল আমদানি করবে দেশটি। তবে বাজার ও নীতিগত অবস্থানের কারণে এ পরিস্থিতির পরিবর্তনও হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি দ্বিদলীয় রাশিয়াবিরোধী নিষেধাজ্ঞা বিলে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। রুশ জ্বালানি তেল কিনছে এমন দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়া হয়েছে এ বিলে। এ ধরনের ক্রেতাদের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে চীন, ভারত ও ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওই ঘোষণায় গত বৃহস্পতিবার বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জ্বালানি তেলের সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়ে পড়ে।
কেপলারের রিফাইনিং অ্যান্ড মডেলিং বিভাগের প্রধান বিশ্লেষক সুমিত রিটোলিয়া জানান, সাম্প্রতিক মাসে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ধারায় উৎসের পুনর্গঠন দেখা যাচ্ছে। ডিসেম্বরে রাশিয়া থেকে দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কমে দিনে প্রায় ১২ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর ভূমিকা রেখেছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা ও বাড়তে থাকা বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা।
গত এক বছরে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময় রাশিয়া থেকে আমদানি প্রায় ৩-৪ শতাংশ কমেছে। ফলে ভারতের মোট জ্বালানি তেল আমদানিতে রাশিয়ার হিস্যা প্রায় ৩৮ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানান সুমিত রিটোলিয়া।
তার মতে, রাশিয়াকে কেন্দ্র করে মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকি কার্যকর হলেও জ্বালানি তেল সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাবে এমনও নয়। বরং রুশ জ্বালানি তেল কেনা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, সে হিসাব নতুন করে করবে দেশ ও কোম্পানিগুলো। কারণ কম দামের সুবিধা নিয়ে এতদিন অর্থায়ন, বীমা ও নিয়ম মানার ঝুঁকি পুষিয়ে আসছিল কোম্পানিগুলো। কিন্তু সে মুনাফা কমে গেলে পরিশোধনকারীরা স্বাভাবিকভাবেই মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা আফ্রিকা থেকে জ্বালানি তেল কিনতে চাইবেন। এসব দেশ থেকে আমদানি ব্যয় বেশি হলেও লেনদেন তুলনামূলক সহজ ও ঝুঁকি কম।
ভারতের জ্বালানি তেল খাতের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে রাশিয়ার উরালস গ্রেডের ওপর দেয়া ডিসকাউন্ট বাড়ছে এবং তা ব্রেন্টের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮-৯ ডলার কম। ভূরাজনীতি ও শুল্ক আলোচনার গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে এ ছাড় আরো বাড়তে পারে।